স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১৭ কিলোমিটার নৌরুটে চালু হয়েছে ফেরি চলাচল।
এতে সকল প্রকার যানবাহনসহ যাত্রী পারাপার সহজ হল। অনাকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের ফেরি চালু হয়েছে দেখে উচ্ছ্বাসিত হাতিয়া দ্বীপবাসী। ফেরিটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভীড় জমাচ্ছে চেয়ারম্যানঘাট এবং হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে।
গত ৩০ জানুয়ারি হাতিয়ার নলচিরা নৌঘাটে ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করেন নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূর নাহার চৌধুরী । এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে উৎসুক জনতার দৃশ্য চোখে পড়ে।
উল্লেখ্য একটি পৌরসভার ও এগারো টি ইউনিয়ন নিয়ে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। পাঁচ লাখ বাসিন্দার এই দ্বীপের তিনদিকে মেঘনা ও এক দিকে বঙ্গোপসাগর।
দ্বীপটিতে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ । উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে নৌকা, ট্রলার, স্প্রিড বোট, সী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের নদী পার হতে হয়। বর্ষায় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় সব নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে । ওই সময় জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী যাত্রী ও মুমূর্ষু রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের মধ্যে একটি নিরাপদ নৌযোগাযোগ মাধ্যম তৈরি হল। এতে করে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, মটর সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন পারাপার সহজতর হলো। যার ফলে অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আসবে।