খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হেরে যাওয়ায় কৃষক জিন্নাত আলী বিশ্বাস নামে এক যুবক নিজের বাড়ির আঙিনার ফলদ বৃক্ষ ও মাঠের লাউগাছের গোড়া কেটে রাগ ও ক্ষোভ মিটিয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নে রানাই গ্রামে গত শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কৃষক জিন্নাত আলী বিশ্বাস লেখাপড়া না জানা এক সহজ-সরল যুবক। তার পরিবার ও প্রতিবেশী প্রায় সকলেই বিএনপির সমর্থক। অনেক আগে থেকেই জিন্নাত জামায়াতে ইসলামের প্রতি অনুগত। তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন। ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জানতে পারেন. দাঁড়িপাল্লা হেরে গেছে। এ কারণে মন খারাপ করেন জিন্নাত। গত শুক্রবার বিকেলে রাগে-ক্ষোভে বাড়ির আঙিনায় সাতটি ফলন্ত আমগাছ, দুটি পেয়ারা ও একটি লিচু, ছয়টি সুপারি, কিছু কলাগাছসহ ৬৫টি ফলন্ত লাউগাছের গোড়া কেটে ফেলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জিন্নাত আলী বিশ্বাস বলেন, ‘‘মন খারাপ করে শখের ফলন্ত বৃক্ষ ও লাউগাছের গোড়াগুলো কেটে নষ্ট করা ঠিক হয়নি। জামায়াতের লোকজন বলেছিলেন, ‘দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে সরাসরি আল্লাহ যুক্ত আছেন।’ তাই দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন করেছিলাম। তাহলে দাঁড়িপাল্লা কেন হারল?”
এভাবে প্রশ্ন রেখে ওই যুবক আরও বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লার লোকজন আমাকে আরও অনেক কথা শুনিয়েছিল।’ কিন্তু কী কথা বলেছিলেন– বলতে রাজি হননি জিন্নাত।
লাজুক স্বভাবের অনুতপ্ত জিন্নাত আরও বলেন, ‘রাগ করে নিজের ক্ষতি করা ঠিক হয়নি। জীবনে আর কোনোদিন জামায়াতের লোকজনের কথা শুনব না। এখন বুঝলাম– সব মিথ্যা কথা বলেছিল তারা!’
জিন্নাতের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, তার স্বামী খুবই সহজ-সরল। তাদের পরিবারে কোনো ঝগড়া বা বিরোধ নেই। মানসিকভাবেও সম্পূর্ণ সুস্থ। কষ্ট-রাগ-ক্ষোভে হয়তো এমন কাজ করে ফেলেছেন। এখন তিনি অনুতপ্ত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে জিন্নাতের বাড়ি ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে। তার কোনো মানসিক সমস্যা নেই। তার পরিবারের সদস্যরা বিএনপির সমর্থক। হঠাৎ শুনলাম, জিন্নাত জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছে। দাঁড়িপাল্লা হেরে যাওয়ার কষ্টে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন তিনি।’