ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ২৭ জন। ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা এবং একটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মোট বৈধ ভোটের ৮ দশমিক ১ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় এসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-১ (সদরের একাংশ ও কাজিপুর)
বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ধানের শীষ প্রতীকে ১,১৬,৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলম পান ১,০৮,৮১৫ ভোট। এ আসনে চারজন প্রার্থী জামানত হারান। মোট ভোট পড়ে ২,৮৪,২১৪টি।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদরের একাংশ ও কামারখন্দ)
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১,৭৭,৫৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পান ১,৩৮,৭৯৭ ভোট। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারান। মোট ভোট পড়ে ৩,২৬,১৪১টি।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ)
বিএনপি প্রার্থী আয়নুল হক ১,৭৩,৫১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। খেলাফত মজলিস প্রার্থী আব্দুর রউফ সরকার পান ১,১৫,৮৩৩ ভোট। চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। মোট ভোট পড়ে প্রায় ৩ লাখ।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া)
জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান ১,৬১,৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলী পান ১,৬১,২৭৮ ভোট। পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারান। মোট ভোট পড়ে ৩,৩৩,০৬৫টি (প্রায় ৭০% ভোটার উপস্থিতি)।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী)
বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম ১,৩৪,৯৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াত প্রার্থী আলী আলম পান ১,০৬,৮০৫ ভোট। ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। মোট ভোট পড়ে ২,৫৪,০৮৩টি।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর)
বিএনপি প্রার্থী এম এ মুহিত ১,৭১,৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী এম. এম. সাইফ মোস্তাফিজ পান ১,০৩,৮২৪ ভোট। ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। মোট ভোট পড়ে ২,৮৮,৬৯৬টি।
জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সংসদীয় আসনের মোট বৈধ ভোটের নির্ধারিত হার না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন জামানত হারিয়েছেন।