রমজানকে কেন্দ্র করে বরিশালের লেবুর বাজারে আগুন লেগেছে। মাত্র একদিন আগে হালি প্রতি ২০ টাকা দরে খুচরা বাজারে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা হালি দরে। বরিশাল নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রমজানকে কেন্দ্র করে লেবুর চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বেচাবিক্রি। তবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে হালি প্রতি বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।
শফিকুর রহমান নামে এক ক্রেতা জানান, প্রথম রোজায় লেবুর সরবত দিয়ে ইফতার করতে চাই। কিন্তু লেবুর দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছি। ২০ টাকার লেবু ৮০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে এমন হলে মানুষ কিভাবে লেবু কিনবে। এমন কথা শুনে তার সুরে সুর মিলিয়েছেন ক্রেতা সুমন খান ও আদনান অলি।
তবে বিক্রেতা রফিক জানান, লেবু বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। পাইকাররা দাম কমালে কম দামে বিক্রি করবো।
তার এই কথার সূত্র ধরে বরিশালের সবচেয়ে বড় পাইকারী মোকাম বহুমুখ সিটি মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। আগে ১০ টাকা হালিতে লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে। পাইকারী মার্কেটে হালি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বাড়লেও খুচরা বাড়ারে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির খবর শুনে অবাক ক্ষোদ পাইকাররা।
সবজির পাইকারী ব্যবসায়ী হারুন বানিজ্যালয়ের মালিক মো হারুন মিয়া বলেন, পাইকারী বাজারের থেকে ১০ -২০ টাকা বেশিতে পন্য বিক্রি হয় খুচরা বাজারে। তবে কি কারনে পাইকারী বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে দ্বীগুন দামে বিক্রি হচ্ছে তার সঠিক কারন জানেনা তিনি।
হারুন মিয়া আরও জানান, টাঙ্গাইল,ময়মনসিংহ এসব এলাকা থেকে লেবু আসে সারা বাংলাদেশে। রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। রমজানে লেবুর দাম চড়া থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে রমজান শেষে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বহুমুখ সিটি মার্কেট মালিক সমিতির সদস্য মোঃ মামুন জানান, লেবু বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে খুচরা বাজারে যেভাবে ক্রেতাদের গলা কাটছে সেটা ঠিক না। আমরা দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কম দামে পেলে খুচরা বাজারেও দাম কমে আসবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমি রাণী মিত্র বলেন, লেবুর দামের বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। দ্রুত আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।