কক্সবাজারের রামু উপজেলায় হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে দুপুরে তারা নিজ গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজায় উপস্থিত হন। ঘটনাটি এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
প্যারোলে মুক্তি পাওয়া দুই সহোদর হলেন দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া গ্রামের নূর আহমদের ছেলে ফরিদুল আলম ও মো. ইসমাঈল। ফরিদুল আলম দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. ইসমাঈল একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা উভয়েই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, শুক্রবার রাতে দুই ভাইয়ের মা মোস্তফা বেগম (৮০) ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুর পর নবী হোসেন নামে এক স্বজন আদালতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে শনিবার তাদের কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়, যাতে তারা জানাজায় অংশ নিতে পারেন।
দুপুরে পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত জানাজায় হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় দুই ভাই অংশ নেন। এ সময় তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তারা কখনো কারও ক্ষতি করেননি। তারা মায়ের রুহের মাগফিরাত ও অসুস্থ বাবা নূর আহমদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর দক্ষিণ মিঠাছড়ির আরেক মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেখানেও জামিন লাভের পর রামুর মাহিন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির মামলায় আবারও তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে প্রায় আড়াই মাস ধরে তারা কারাগারে রয়েছেন। বন্দি থাকায় জীবিত অবস্থায় মাকে শেষবার দেখতে পারেনি দুই ভাই। তাদের বাবা নূর আহমদও বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ বলে পরিবার জানিয়েছে।