হোটেলে অজ্ঞান পার্টির গোপন ডেরা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের বিদায় জানাতে আসা স্বজন ও যাত্রীদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর অজ্ঞান পার্টির মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাজুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের এক আবাসিক হোটেল থেকে ৫৫টি চোরাই মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
গত শনিবার ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। বিদায় পর্ব শেষে বহির্গমন এলাকায় যখন তিনি অপেক্ষা করছিলেন, তখনই তার দিকে পরম বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় ওত পেতে থাকা অজ্ঞান পার্টির সদস্য তাজুল ইসলাম। কথাবার্তার ছলে সখ্যতা গড়ে তুলে আরাফাতকে এক কাপ কফি দেয় তাজুল। কিন্তু সেই কফির কাপেই মেশানো ছিল তীব্র চেতনানাশক ট্যাবলেট। কফি পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন আরাফাত। মুহূর্তেই পকেটে থাকা দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ লুটে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে তাজুল।
তবে বিমানবন্দরে এপিবিএনের সদস্যরা হাতেনাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। তল্লাশিতে তার ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট। জিজ্ঞাসাবাদে মূলহোতা তাজুল এপিবিএন-কে জানায়, তার দলের সদস্যরা বাস, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর এলাকায় টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিখুঁতভাবে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। এরপর সুযোগ বুঝে চা, কফি বা সফট ড্রিংকের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নেয়। নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখতে মাঝে মাঝে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির নিখুঁত অভিনয়ও করে, যাতে ভিকটিম কোনোভাবেই সন্দেহ না করে। তাজুল স্বীকার করে, সে একা নয়, ৪ থেকে ৫ জনের একটি সিন্ডিকেট নিয়ে ঢাকাজুড়ে এই কারবার চালানো হয়। আর তাদের লুণ্ঠিত মালামাল জমা হয় মিরপুরের এক গোপন ডেরায়।
এয়ারপোর্ট এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার ফাউজুল কবীর মঈন জানান, অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা তাজুলের তথ্য মতে, মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার ‘হোটেল রয়েল’-এর একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৫টি চোরাই মোবাইল ফোন, ১০টি উন্নত মডেলের এয়ারবাড হেডফোন এবং ১৫টি দামি হাতঘড়ি, নগদ দুই লাখ তেইশ হাজার বাংলাদেশি টাকা, সৌদি আরবের ৫৩.৫০ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরা এবং আরও ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট ও ২টি পুরিয়া।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। এ বিষয়ে এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) অনিতা রানী সূত্রধর নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় অভিযান ও কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।