সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেখানে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন থেকে হেঁটে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনের দিকে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে অভিবাদন জানাতে ভিড় করেন। ভিড় ঠেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফের (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) এক সদস্য তাকে গলাধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টার পর সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে ছাত্রদল নেতাকে ধাক্কা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা সমালোচনা। অবশেষে এবিষয়ে মুখ খুলেছেন আমানউল্লাহ আমান নিজেই।
বিকেলে বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমান। তিনি বিষয়টিকে ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’ বা পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমান লেখেন, ‘আমাদের ভালোবাসার অবিকল্প শব্দ তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছেন, এটা আমাদের জন্য পরমানন্দের। তিনি আমাদের আবেগের জায়গা, আবার একই সঙ্গে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী।’
নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য জরুরি। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীদের হিমশিম খেতে হয়। হয়তো কারো পেশাদারত্বের ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আমি নিশ্চিত ওই এসএসএফ সদস্য ইচ্ছে করে এটি করেননি। ভিড়ের চাপে এমনটা ঘটে গেছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাকারীদের জবাব দিয়ে আমান বলেন, ‘যারা এই ঘটনা নিয়ে মজা নিচ্ছে, তাদের পরচর্চা ছাড়া কাজ নেই। যে তারেক রহমান দেশের জন্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, তার জন্য আমি অপমান সইতে পারি এবং আমৃত্যু তার পাশে ভ্যানগার্ড হয়ে থাকব।’
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সিনেট ভবন থেকে মিলনায়তন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে দীর্ঘ সময় পর ঢাবি ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসএসএফের ওই আচরণ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্বাভাবিক বললেও কেউ কেউ অতি উৎসাহী আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন।