বিতর্কিত এক অধ্যাপককেই দেওয়া হলো উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ! যেখানে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেখানে উল্টো তাকে দেওয়া হলো উপাচার্যের চেয়ার উপহার! এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীনের। সম্প্রতি তাকে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঢাবির থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শিক্ষক নিয়োগে প্রভাব খাটানো, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ ছিল অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীনের বিরুদ্ধে।
ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীনের এই নিয়োগের খবর প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে ঢাবির থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহননের প্রসঙ্গটি। গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নাগরিক প্রতিদিনের অনুসন্ধানে উঠে আসে বহু বছরের জমে থাকা অভিযোগ, গুঞ্জন এবং অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার বিবরণ। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধ্যাপক ইসরাফিল।
একাধিক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন ইসরাফিল শাহীন। কারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন, কারা বাদ পড়বেন কিংবা বিভাগের ভেতরে কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে, এসব বিষয়ে তার মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতো।
বিভাগের প্রথম দিকের একজন সাবেক শিক্ষার্থী, যিনি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে নিজেদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তার ভাষ্যমতে, সেই সময় বিভাগের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই শিক্ষক ছিলেন অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীন ও অধ্যাপক জামিল আহমেদ। আহমেদুল কবির ইয়াং, আশিক রহমান লিওন, সুদীপ চক্রবর্তী, শাহমান মরিশাসহ একাধিক শিক্ষক নিয়োগে তাদের মতামত কার্যকর ভূমিকা রাখত।
তার দাবি, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও নতুনরা জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের প্রভাবের বাইরে যেতে পারতেন না। শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, একপর্যায়ে ইসরাফিল শাহীন তাকে সরাসরি বলেছিলেন— ‘তুমি বিএনপির টিকিট নিয়ে আসো, তাহলে নেওয়া সহজ হবে।’
তার মতে, বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া শিক্ষক হওয়া কঠিন। আবার যাদের শিক্ষক হিসেবে নেওয়ার আগ্রহ থাকত, তাদের জন্য রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টাও করা হতো।
বিভাগের অভ্যন্তরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে তিনি ‘স্বাভাবিকীকৃত সংস্কৃতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভাগের শিক্ষক আহমেদুল কবির ইয়াং নিজের শিক্ষার্থী উম্মে সুমাইয়াকে বিয়ে করেন এবং পরে একাডেমিক নীতিমালার কারণে তার ক্লাস নেননি। আশিক রহমান লিওনসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীজীবন থেকেই সম্পর্কে ছিলেন এবং চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে করেন।
এক নির্দিষ্ট নারী শিক্ষার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টার কথাও বলেন ওই সাবেক শিক্ষার্থী। তার দাবি, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিভাগের এক শিক্ষকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরীক্ষায় ‘নকল সাপ্লাই’ দেওয়ার অভিযোগও শোনা যেত। শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের এক সদস্যের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ওই শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশেষ চেষ্টা হয়েছিল। তবে এসব তথ্যের অনেকটাই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ও লোকমুখে শোনা বলেও তিনি স্বীকার করেন।
সুদীপ চক্রবর্তীকে ঘিরেও বিভাগের ভেতরে দীর্ঘদিন নানা আলোচনা ছিল বলে দাবি করেন ওই সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, প্রায় এক যুগ আগে বিভাগের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডাকার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ঘটনার সময় অধ্যাপক জামিল আহমেদ সুদীপ চক্রবর্তীকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা বলেন এবং ইঙ্গিত দেন যে অতীতে তাকেও একবার ‘থানা থেকে বাঁচিয়ে আনা’ হয়েছিল।
‘স্বর্ণ বোয়াল’ নাটকের সময় উম্মে হানি, মিম ও তিথি চক্রবর্তীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী সুদীপ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলয়ে ছিলেন বলেও জানান তিনি। বিদেশ সফরের পর বিভাগে আলোচনা ছিল—নির্দিষ্ট কিছু নারী শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এসব আলোচনা ও গুঞ্জন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলেও তার দাবি।
তিনি আরও বলেন, বিভাগের ভেতরে নারী শিক্ষার্থীদের ‘চুপ করিয়ে রাখা’, মানসিক চাপে রাখা, অপমান করা কিংবা বাড়তি সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতের মতো বিষয় বহুদিন ধরে আলোচিত ছিল। তবে অধিকাংশ অভিযোগের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, বিভাগের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী আফসা পারভীন সরাসরি অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং তার শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন।
নাগরিক প্রতিদিনকে দেওয়া বক্তব্যে আফসা পারভীন বলেন, একদিন ইসরাফিল শাহীন তাকে রিকশায় তুলে কলাভবন থেকে বুয়েট এলাকায় নিয়ে যান এবং পুরো সময় যৌন হয়রানি করেন। পরে বুয়েট এলাকার একটি স্থানে নিয়েও তাকে ‘অ্যাবিউজ’ করা হয়। ঘটনাটি তখন কাউকে জানাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন, কারণ সে সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তার ভাষ্যমতে, ঘটনার পর তিনি ইসরাফিল শাহীনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন এবং লক্ষ্য করেন, অন্য ছাত্রীদের প্রতিও তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। পরে সহপাঠী আলফি খানের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলে তা সমতা দাসের মাধ্যমে ইসরাফিল শাহীনের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তাকে ‘খারাপ শিক্ষার্থী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আফসা পারভীনের ভাষায়, ‘সে আমাকে ডমিনেট করতো, মানসিকভাবে চাপে রাখতো, যাতে আমি তার নিয়ন্ত্রণে চলে যাই।’
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে বিভাগের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশও তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে এবং তাকে একঘরে করে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ছাত্রী মিলে পরে ইসরাফিল শাহীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে বিভাগের এক শিক্ষকের কাছে গেলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি। ওই সময় যদি অভিযোগের বিচার হতো, তাহলে পরবর্তীকালে এত দূর গড়াতো না।’
তার অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বিভিন্ন প্রোডাকশন ও বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা, অপমান করা, পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া এবং ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হতো। একইসঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো এবং শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
‘আমি এত বছর চুপ ছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সত্যিটা বলা দরকার। যারা আমাদের জীবনের এত ক্ষতি করেছে, তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনা উচিত,’ বলেন তিনি।
বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাগরিক প্রতিদিনকে জানান, বিভাগের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রভাব শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
তার ভাষ্যমতে, অতীতে এই গোষ্ঠীর প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পেতেন না কেউ। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ও তার স্বামীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভ্যন্তরীণ আলোচনা ছিল। পাঁচ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কয়েকজন শিক্ষককে নিজেদের অবস্থান ‘পরিষ্কার’ করার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তার দাবি, তখন বিভাগীয় প্রধানের পদ ছাড়ার কথাও উঠেছিল, পরে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাফিল শাহীন নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও ক্ষমতার প্রদর্শন করতেন।
তিনি একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর একদিন ক্লাসে এসে ইসরাফিল শাহীন শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে ঢাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি কে? মেয়র তাপস। তাকে আমি এখন ফোন দেব।’
এমনকি ফোন করলেই বড় অঙ্কের অর্থ বা ‘সাপোর্ট’ এনে দিতে পারবেন বলেও দাবি করতেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী। তার মতে, এসব আচরণের কারণে বিভাগে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপদ বা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ কম পেতেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাগরিক প্রতিদিনের পক্ষ থেকে ফোনে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল শাহীন তথ্য-প্রমাণ চেয়েছেন এবং ফোনে মন্তব্য দিতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নাগরিক প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘আমি ডিপার্টমেন্টে নাই এখন।’
শিক্ষক নিয়োগে তার প্রভাব থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডকুমেন্ট আছে বলতে? তারা তো বলছে। আমি অভিযোগ করতে পারি আপনার সম্পর্কে। আপনি কি লিখবেন?’
একাধিক ছাত্রীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনার যদি কোনো ডকুমেন্ট থাকে... আপনি আমার সামনে কালকে আসেন। এখানে ফোনে ফোনে এসব হয় না।’
আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিবেদকের বয়স জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স ২৮। আপনার কত? আমাকে যদি প্রশ্ন করতে চান তাহলে কিছু নিয়ম আছে, কন্টেনশন আছে, আপনাকে আসতে হবে আমার সামনে।’
পরে তিনি জানান, নাগরিক প্রতিদিনের সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন।
অন্যদিকে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বর্তমান বিভাগীয় প্রধান কাজী তামান্না হক সিগমা অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তিনি নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে, এগুলো নানান ধরনের ভুয়া তথ্য। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অনেক কিছু লিখছেন। কে কী লিখছে, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। ফেসবুক কোনো তথ্যভিত্তিক মাধ্যম না। সেখানে কোনো ডকুমেন্ট বা প্রমাণাদি নেই। যার যেমন মনে চায়, সে তেমন লিখতে পারে।’
ইসরাফিল শাহীনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার আসলে কোনো মন্তব্য নাই।’