গ্রেপ্তার 'ভাঙ্গারি রনি'
ঘটনা ঘটার পর তিন-তিনটি মাস কেটে গেছে। কিন্তু রাজধানীর বুকে সংঘটিত অন্যতম চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যেন এক জায়গায় থমকে আছে! ২০০১ সালের সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় থাকা খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে এখনো মূল শুটারদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যেই ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রনি ওরফে 'ভাঙ্গারি রনি'।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই একটি গ্রেপ্তার, নাকি মামলার মূল গতিপথ ভিন্নখাতে ঘোরানোর চেষ্টা? আন্ডারওয়ার্ল্ডের গুঞ্জন, শীর্ষ সন্ত্রাসী 'ইমন'-কে আড়াল করতেই কি এই গ্রেপ্তারের পেছনে সাজানো হয়েছে নতুন কোনো আইনি ছক?
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অভিযানে মঙ্গলবার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রনি ওরফে ভাঙ্গারি রনিকে। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলসহ তাকে ধরা হয়।
ডিবি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রেজাউল করিম গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রনি টিটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অস্ত্রসহ ধরা পড়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনের বটতলায় পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় টিটনকে।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন জনাকীর্ণ এলাকায় দিনে-দুপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এত দিন পার হলেও মামলার চোখে পড়ার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। টিটনকে সরাসরি গুলি করা মূল পেশাদার শুটাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েই জন্ম নিয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বসিলা হাটের ইজারার জন্য দরপত্র কিনেছিলেন গ্রেপ্তারকৃত রনি। কোটি টাকার হাটের নিয়ন্ত্রণ এবং বখরা ভাগাভাগি নিয়েই কি এই রক্তাক্ত বিরোধ? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো গডফাদারের হাত?
টিটন হত্যার পরপরই দায়ের করা এজাহার নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী 'ইমন'-এর নাম মামলা থেকে বাঁচাতেই কৌশলে মূল শুটারদের আড়াল করা হচ্ছে। ভাঙ্গারি রনিকে সামনে এনে মূল অপরাধীদের থেকে নজর সরানোর একটি ছক কাজ করছে না তো?—এমন প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যাকাণ্ড কেবল কোনো বিরোধের ঘটনা নয়; এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও কোটি টাকার সাম্রাজ্যের লড়াই।