মূল পরিকল্পনাকারী জনি
রাজধানীর মিরপুরে কাফরুল থানা যুবদলের কর্মী ইউসুফ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এটি কি স্রেফ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ২৫ লাখ টাকার ‘কিলিং মিশন’, নাকি আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে গভীর রাজনৈতিক ব্লু-প্রিন্ট?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিকল্পিত এক ‘টার্গেট কিলিং’ মিশন। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে চিরতরে সরিয়ে দিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল চার পেশাদার শুটার। আর এই পুরো মিশনের জন্য লেনদেন হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা!
ডিবি পুলিশের দাবি, ঘটনার মূল টার্গেট ছিলেন যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু। কিন্তু হামলার চূড়ান্ত মুহূর্তে শুটারদের ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি বিদ্ধ হয় সহযোগী ইউসুফের দেহে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ইউসুফ।
কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে ‘সিএনজি হাফি‘র সঙ্গে হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের আক্রোশ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেন ও শুটার ভাড়ার হাড়হিম করা বিবরণী।
তবে ডিবির এই আধিপত্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশের তথ্যকে এক বাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন হামলার প্রধান টার্গেট কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তিনি দাবি করেছেন, এই রক্তপাতের মূল ঘটনা আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার প্রার্থিতার আগ্রহই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সরাসরি এর নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাফরুল থানা বিএনপির দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনিকে দায়ী করেছেন।
হাফিজুল বাবু বলেন, ‘কাফরুলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটপাত বাণিজ্য, ময়লা ক্যানভাস, ডিস-ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কিংবা অন্য কোনো চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। গত ২০-২২ বছর ধরে যারা এসব ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তারাই করে আসছেন। আমাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে বলি হতে হয়েছে নিরপরাধ ইউসুফকে।’ কিলিং মিশনকে 'আন্ডারওয়ার্ল্ড' বা ব্যক্তিগত কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মূল রাজনৈতিক পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
এসব বিষয়ে জানতে সাব্বির দেওয়ান জনি‘র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
২৫ লাখ টাকার এই কিলিং মিশনের নেপথ্যে থাকা আসল 'মাস্টারমাইন্ড' কে—তা জানতে এখন গোটা দেশের নজর ডিবির চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের দিকে।