স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বাজেটের আয়তন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও জনগণের জীবনমান ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বরং অনেক সময় বাজেট দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজধানীর পল্টনের ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরামের অডিটরিয়ামে রোববার (২৪ মে) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অর্থনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সময়ের ব্যবধানে সেই বাজেট বেড়ে আসন্ন অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। কিন্তু বাজেটের এই ব্যাপক সম্প্রসারণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, আসন্ন বাজেট যাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার না হয়, সে জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিরোধীদলের দায়িত্ব শুধু সংসদে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধীদলকে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।