বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার (https://belancer.com) নতুন প্রযুক্তি, উন্নত ফিচার এবং বৃহত্তর ভিশন নিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করছে। ‘ওয়ার্ক ফর এভরিওয়ান’, অর্থাৎ ‘সবার জন্য কাজ’—এই দর্শনকে সামনে রেখে বিল্যান্সারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তিকে বৈশ্বিক ও স্থানীয়—উভয় কর্মবাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা বিল্যান্সার ইতোমধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সার এবং সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ক্লায়েন্টকে সংযুক্ত করেছে। নতুন সংস্করণে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ব্যক্তি, স্টার্টআপ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান কাজ দিতে পারবে, তবে কাজ করবেন শুধু বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, এসএমই, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাগুলোও বিল্যান্সারের মাধ্যমে দক্ষ জনবল খুঁজে নিতে পারবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফ্রিল্যান্সার জনশক্তির দেশ। বিভিন্ন সরকারি ও শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখের বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন, যাদের একটি বড় অংশ এখন ডিজিটাল কর্মসংস্থান, রিমোট ওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
বিশ্বব্যাপী গিগ অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট পাওয়া, নিরাপদ পেমেন্ট, কাজের নিশ্চয়তা, আস্থার সংকট এবং পেশাদার কর্মপরিবেশের অভাব এখনো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিল্যান্সারে থাকছে গিগ মার্কেটপ্লেস এবং প্রজেক্ট—দুই ধরনের সুযোগ। ক্লায়েন্টরা নির্দিষ্ট সেবা সরাসরি কিনতে পারবেন অথবা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রজেক্ট পোস্ট করে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘এসক্রো ফান্ড প্রোটেকশন সিস্টেম’। কাজ শুরু হওয়ার আগে ক্লায়েন্টের অর্থ নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে এবং কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই অর্থ ফ্রিল্যান্সারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সার—উভয় পক্ষের জন্য ঝুঁকি কমবে এবং আস্থা বাড়বে।
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ। বিল্যান্সার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টরা পরিচিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে সহজে অর্থ প্রদান করতে পারবেন এবং বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা নিরাপদে তাদের উপার্জন গ্রহণ করতে পারবেন।
এছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে রেটিং, রিভিউ, যাচাইকৃত প্রোফাইল, অন-টাইম ডেলিভারি, অন-বাজেট পারফরম্যান্স, ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি সূচক এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং বাজারে দীর্ঘদিনের আস্থা ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে দক্ষ মানুষের কোনো অভাব নেই। কিন্তু দক্ষতা এবং সুযোগের মধ্যে এখনো একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। বিল্যান্সারের লক্ষ্য সেই ব্যবধান দূর করা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি, যেখানে বিশ্ব ও বাংলাদেশ কাজ দেবে, আর বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা সেই কাজ সম্পন্ন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস তৈরি করা নয়; বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।’
ফ্রিল্যান্সার তানভির রেজওয়ান বলেন, ‘অনেক সময় কাজ পাওয়ার পরও পেমেন্ট নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। এসক্রো, রেটিং এবং রিভিউভিত্তিক একটি স্থানীয় প্ল্যাটফর্ম ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারে।’
বাল্ক এসএমএস বিডির প্রধান নির্বাহী ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রায়ই ওয়েবসাইট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজাইন বা কনটেন্টের কাজ করাতে হয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য লোক খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। একটি বিশ্বাসযোগ্য বাংলাদেশি মার্কেটপ্লেস ব্যবসাগুলোর জন্য অনেক মূল্য তৈরি করবে।’
বিল্যান্সারের প্যারেন্ট কনসার্ন হাইপারট্যাগ গত এক দশকেরও বেশি সময়ে বিভিন্ন সরকারি, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৫ হাজারের বেশি পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ও প্লেসমেন্টে সহায়তা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি ইন্টার্নশিপ অ্যান্ড আর্লি ক্যারিয়ার পোর্টাল চালু করা হবে, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ, বাস্তব প্রকল্প এবং কর্মজীবনের প্রথম সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
বিল্যান্সার বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, ডিজিটাল দক্ষতা এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের সুযোগকে একত্রিত করা গেলে আগামী দশকে দেশটি বৈশ্বিক গিগ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।