রমজান মাস উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য গণইফতারের আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। তবে, সেই গণইফতারে খাবার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও রাকসু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছাত্রদের এবং শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্রীদের জন্য এই গণইফতারের আয়োজন করা হয়।
খাবার না পাওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘মেইনটেইন করতে না পারলে এমন আয়োজন করার প্রয়োজন কী ছিল? কষ্ট করে কার্ড নেওয়ার পরও সেটার কোনো ব্যবহার ছিল না। পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়নি। এটি আয়োজনের নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।’
আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান শান্ত বলেন, ‘ইফতারে খাবার পাওয়াটাই মূল বিষয় নয়, বরং সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করার পরিবেশটাই শিক্ষার্থীদের একত্র করেছিল। আয়োজকরা যদি ২০–৩০ মিনিট আগেই জানাতেন যে খাবার দেওয়া সম্ভব হবে না, তাহলে আমরা নিজেদের মতো ব্যবস্থা করতে পারতাম। সারাদিন রোজা রেখে ক্লাস ও কাজ শেষে এমন পরিস্থিতি সত্যিই কষ্টদায়ক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছুটির দিনেও অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে টোকেন সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত সেই টোকেন কার্যকর হয়নি এবং উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।’
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ‘আয়োজনের অর্থের উৎস ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকায় জবাবদিহিতার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। টোকেন দেওয়ার পরও খাবার সংকট তৈরি হওয়া অব্যবস্থাপনার স্পষ্ট উদাহরণ এবং দাওয়াত দিয়ে খাবার দিতে না পারা আয়োজনের ব্যর্থতা নির্দেশ করে। তবে তিনি এটিকে একটি মহৎ উদ্যোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘এক কথায় আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ১৬ হাজার ৮০০টি টোকেন দেওয়া হলেও প্রায় ১৮ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অতিথি ও বাইরের মানুষের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ও কার্ড যাচাই ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। সময়মতো ইফতার নিশ্চিত করতে শেষদিকে টোকেন ছাড়াই অনেককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও জানান, প্রায় ১৮ হাজার মানুষ ইফতার করতে পারলেও কিছু ভলান্টিয়ার ও শিক্ষার্থী খাবার পাননি, যার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিচ্ছেন।
রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। টোকেন ছাড়া অনেকেই বসে পড়ায় খাবারের ঘাটতি তৈরি হয়।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে রাকসুর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করা হবে।
গণইফতার আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলেও ব্যবস্থাপনা ঘাটতি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।