নতুন বছর ২০২৬ সালের সঙ্গে শুরু হলো নতুন শিক্ষাবর্ষও। শিক্ষার্থীরা পুরনো পাঠ্যবইয়ের বদলে হাতে পাবে নতুন বই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম পর্যন্ত সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। তবে এ বছর কোনো উৎসব ও অনুষ্ঠান করা হবে না। নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বই নিতে পারবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছে। জানা গেছে, প্রাথমিকের সব বই স্কুলে গেছে। তবে মাধ্যমিকের এখনো অর্ধেক পাঠ্যবই ছাপা হয়নি। মার্চ মাসের আগে বই পাবে না মাধ্যমিকের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে বই বিতরণ করা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন অনেকে। এ নিয়ে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানতে আগ্রহী।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এবার উৎসব হবে না। এটা আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু স্ব স্ব স্কুলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করবেন। ১ জানুয়ারি সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বই বিতরণ করার নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবার মোট বইয়ের সংখ্যা আট কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি। শতভাগ বই ছাপা, বাঁধাই, কাটিংয়ের কাজ শেষে বিতরণে জন্য উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ চলমান। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবমের মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের ৭৮.৭২ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ৫৮.৬৮ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে এখনো প্রায় অর্ধেক বই সরবরাহ বাকি রয়েছে। এতে বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে।