বছরের প্রথম দিনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে সারা দেশের স্কুলগুলোতে ২৪ কোটি বই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাদেশের সব স্কুলের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বই হাতেও পেয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানিয়েছেন।
ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৩০ কোটি দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি। আর এর মধ্যে আজকে এক তারিখ পর্যন্ত আমাদের বই সরবরাহ করা হয়েছে ২৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ১০টি। অর্থাৎ সরবরাহ হয়েছে ৮২.২৬ শতাংশ। এটা হচ্ছে ওভারঅল পিকচার।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরে আমাদের সাধারণ শিক্ষাধারার বইয়ের সংখ্যা ছিল আট কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৪টি। এটা আমরা ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যেই ডেলিভারি করে ফেলেছি ১০০ শতাংশ।’
এনসিটিবির সিনিয়র এই সদস্য বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরে মাদ্রাসা শিক্ষাধারার বই সংখ্যা ছিল তিন কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৪৭টি। এর মধ্যে ডেলিভারি হয়েছে দুই কোটি ৯৫ লাখ আট হাজার ৬৮২, অর্থাৎ ৯৫.০৮ শতাংশ।’
ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জন্য আলাদা করে বলছি এ জন্য যে সেটা আলাদা করে গুরুত্বের দাবি রাখে। আমাদের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী যারা, তাদের বই সংখ্যা হচ্ছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি এবং এটাও ১০০ শতাংশ ডেলিভারি হয়ে গেছে ডিসেম্বর ১৫ তারিখের মধ্যেই।’
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সিনিয়র এ সদস্য বলেন, ‘সেকেন্ডারিতে আমাদের মাধ্যমিক স্তরে যে তিনটা শিক্ষাধারা আছে—সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি, এই তিনটি মিলে টোটাল বইয়ের সংখ্যা হচ্ছে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ৯২৭টি। এর মধ্যে আমাদের আজকে পর্যন্ত, মানে আজ সকাল আমি ৮টার ডেটা বলছি, এগুলো যা যা বলছি, সবই ডেলিভারি হয়েছে ১৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৫৮৫৪, অর্থাৎ ৭১.৭৬ শতাংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর ক্লাস ধরে যদি বলি, ক্লাস সিক্সে আমাদের বইয়ের বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯টি। এর মধ্যে ডেলিভারি হয়েছে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯১০টি। পারসেন্টেজে দাড়ায় ৮১.১৮ শতাংশ। ক্লাস সেভেনে বইয়ের বরাদ্দ সংখ্যা ছিল চার কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২টি। এর মধ্যে আজকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেলিভারি হয়েছে দুই কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮৫, অর্থাৎ ৬২.৮৬ পারসেন্ট। ক্লাস এইটে বরাদ্দ হচ্ছে আট কোটি দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮টি বই। ডেলিভারি হয়েছে দুই কোটি ছয় লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৫, অর্থাৎ ৫১.৪২ শতাংশ। আর নবমের বইয়ের বরাদ্দকৃত সংখ্যা হচ্ছে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮টি। এর মধ্যে ডেলিভারি হয়েছে চার কোটি ৮৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৪, অর্থাৎ ৮৫.২৮ শতাংশ।’
ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘এই টোটাল বইয়ের মধ্যে যেটা বললাম, ৩০ কোটি দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪, এর মধ্যে ব্রেইলের পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা হচ্ছে ছয় হাজার ২৬টি। ব্রেইল পাঠ্য বইয়ের ডেলিভারি হয়ে গেছে চার হাজার ৫২০টি, অর্থাৎ ৭৬.৪০ শতাংশ। আমরা আশা করছি, আগামী ১৫ জানুয়ারি আমাদের ১০০ শতাংশ ডেলিভারি হয়ে যাবে।’