জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই বিতরণ শেষ করার পর এবার মাধ্যমিক স্তরের (স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) বাকি সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বই মুদ্রণ ও বিতরণের সর্বশেষ অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত সর্বমোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪ কপি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ে ৮৪.৭৮ শতাংশ বই সরবরাহ হয়েছে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই মাধ্যমিক স্তরের বাকি সব বই সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য নির্ধারিত ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০ কপি পাঠ্যপুস্তক শতভাগ মুদ্রণ ও বিতরণ করা হয়েছে। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, ফলে ১ জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছে।
এ ছাড়া, ইবতেদায়ি ও ব্রেইল পদ্ধতির বই সরবরাহ কার্যক্রমও প্রায় শতভাগের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
এনসিটিবি জানায়, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের জন্য নির্ধারিত ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪ কপি বইয়ের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই স্তরের ৮৮.৫০ শতাংশ বইয়ের মুদ্রণ ও ৮১.৬০ শতাংশ বইয়ের প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত গড়ে ৭৮.৬৯ শতাংশ বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শ্রেণিভিত্তিক সরবরাহের তথ্য অনুযায়ী, ইবতেদায়ি স্তরের ৯৬.১৬ শতাংশ, ৯ম শ্রেণির ৮৭.৯৬ শতাংশ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৮৫.৬১ শতাংশ বই সরবরাহ হয়েছে। তবে, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির সরবরাহ যথাক্রমে ৬৮.৬৯ শতাংশ ও ৫৪.৭৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) ২৮ ডিসেম্বর থেকে সকল স্তরের ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ আপলোড করা হয়েছে।
মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের অবশিষ্ট সকল বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।