দুই গোলের ধাক্কা সামলেও দারুণ লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
আর আগে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মিশর এবং ১৫ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে ডি-বক্সের মাঝখান থেকে শক্তিশালী হেড করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। বল পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
গোল হজমের পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতরে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ২১ মিনিটে স্পটকিক নিতে আসেন লিওনেল মেসি। তবে তার বাঁ পায়ের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
২৮ মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মোস্তফা। রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ডানদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা। ৩৮ মিনিটে মেসির দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মিনিটখানেক পর তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে জুলিয়ান আলভারেজ শট নিলেও সেটিও রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে নিজেদের অর্ধে প্রায় পুরো দল নিয়ে রক্ষণ গড়ে তোলে মিশর, ফলে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে মেসি জায়গা বের করে বল বাড়ান রদ্রিগো ডি পলকে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার নিচু শট অনায়াসেই তালুবন্দি করেন মোস্তফা।
পরে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠায় মিশর। হাসানের পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জিকো বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের সূচনাতেই ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল করে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
হাসানের দারুণ দৌড়, মোহাম্মদ সালাহর নিখুঁত পাস এবং জিকোর দুর্দান্ত ফিনিশিং মিলিয়ে এটি হতে পারত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল। তবে ফাউলের কারণে সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলের পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সূচনা করে। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুবার জাল খুঁজে পেয়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা।
৭৯ মিনিটে প্রথম গোলটি আসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর কাছ থেকে। রক্ষণভাগ ভেঙে সামনে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার ডান প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির ভাসিয়ে দেওয়া নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেড করেন। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বাঁ হাত বাড়িয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সেটি পোস্টের ভেতরের কোণ ঘেঁষে গোললাইন অতিক্রম করে। মিশরের খেলোয়াড়রা অফসাইডের দাবি তুললেও সেটি গ্রহণ করেননি ম্যাচ কর্মকর্তা।
গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরেকটি আঘাত হানে আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিটে মেসি নিজেই সমতার গোলটি করেন। তার জোরালো শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ক্রসবারের নিচের অংশে আঘাত করে জালে ঢুকে যায়। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। পাশাপাশি টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন তিনি।
সমতা ফেরানোর পর থেমে থাকেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৯২ মিনিটের সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।