বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কজন সংগীত ব্যক্তিত্ব পথিকৃৎ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তাঁদের অন্যতম ফুয়াদ নাসের বাবু। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ফিডব্যাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা, ব্যান্ড লিডার, সুরকার, গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী ও কিবোর্ডবাদক এই কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞের জন্মদিন আজ। ১৯৬০ সালের ৩১ মে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় থাকা ফুয়াদ নাসের বাবু বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ড সংগীতকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পপ রক, সফট রক ও ব্লুজ ঘরানার সংগীতে তাঁর সৃজনশীলতা এবং পরীক্ষাধর্মী কাজ তাঁকে সমকালীনদের থেকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
১৯৭২ সালে মাত্র কিশোর বয়সে তিনি তাঁর প্রথম গান ‘আবার এসেছে সেই মুক্তির লগ্ন’ সুরারোপ করেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রচিত এই গণসংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর সংগীতযাত্রা। পরবর্তীতে ‘উদাসী এই মনে’ গানটির মাধ্যমে রেকর্ডিং শিল্পী ও সুরকার হিসেবে তাঁর পথচলা আরও দৃঢ় হয়।
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীদের কাছে ফুয়াদ নাসের বাবুর নাম উচ্চারিত হয় বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে। তাঁর সুরে নির্মিত জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘মেলায় যাইরে’ অন্যতম, যার কথা লিখেছেন মাকসুদুল হক। ফিডব্যাক ব্যান্ডের মাধ্যমে তিনি যে সংগীতধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
শুধু ব্যান্ড সংগীতেই নয়, বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারি সংগীতেও তাঁর অবদান অনন্য। রেডিও ও টেলিভিশনের অসংখ্য বিজ্ঞাপনী জিঙ্গেল, নাটকের থিম মিউজিক, চলচ্চিত্রের আবহসংগীত এবং টেলিভিশন চ্যানেলের স্টেশন আইডি নির্মাণে তিনি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনী জিঙ্গেলে আধুনিক সংগীতায়োজনের প্রবর্তনে তাঁর ভূমিকা সংগীতবিশেষজ্ঞদের কাছে উচ্চ প্রশংসিত।
একজন দক্ষ বেজ গিটারিস্ট হিসেবেও ফুয়াদ নাসের বাবুর পরিচিতি সুপ্রতিষ্ঠিত। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে পারফর্ম করে আসছেন তিনি।
বর্তমানে ঢাকায় ‘আর্ট অব নয়েজ’ নামের একটি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও পরিচালনা করছেন ফুয়াদ নাসের বাবু। সংগীত নির্মাণ, নতুন শিল্পী গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংগীতচর্চার মাধ্যমে তিনি এখনও সমানভাবে সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক।
জন্মদিন উপলক্ষে সংগীতাঙ্গনের সহকর্মী, শিল্পী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা এই গুণী সংগীত ব্যক্তিত্বের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সৃজনশীল জীবনের ধারাবাহিকতা কামনা করেছেন।