ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি মানেই আলাদা আয়োজন, ভিন্নতা ও চমক। এবারের জন্মদিনও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশ-বিদেশে একটানা কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করছেন তিনি। বিদেশে উৎসব শেষ করে দেশে ফিরে আবারও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন এই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা। তবে পরীর জন্মদিনের দাওয়াতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন আরেক অভিনয়শিল্পী প্রসূন আজাদ। সেখানে আইনশৃঙ্খলা ও অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর দায়িত্বরতদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে ফিরে আসেন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে প্রসূন তার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘পরীমণি মানুষদের দাওয়াত দেয়। মানুষজন যায়। যাওয়ার পর অনেকগুলো সান্ডা-সান্ডা, পান্ডা লোক দাঁড়ায় থাকে, যারা আপনার হাঁটার রাস্তা আটকে জিজ্ঞেস করবে, ‘আপনি কে?’ পরীমণি হয়তো নিজেও জানে না তার নাম রৌশন করতে যতলোক টাকা খরচ করে রেখেছে, তারা প্রত্যেকেই তার গেস্টদের (অতিথি) মূলত অপমান করার জন্যই কাজ করছে। এই সান্ডাদের কালো রঙের গেঞ্জি ও প্যান্ট না পরিয়ে হাতে একটা কাগজ ও কলম ধরিয়ে দিলে বরং খরচা কম হতো। সাথে আগত অতিথিদেরও অসম্মান হতো না। কাউকে জিজ্ঞেস করার আগে একটা গেস্ট লিস্ট (অতিথিদের তালিকা) রাখা প্রয়োজন।’
সচরাচর শোবিজ অঙ্গনের আমন্ত্রণে দেখা যায় না প্রসূনকে—এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মিডিয়ার কারও দাওয়াতে যাই না। মেট্রোতে করে, রিকশায় করে প্রচুর ধকল পেরিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সে (পরীমণি) আমার পছন্দের মানুষ। পরী, তুমি আমাকে লোক-দেখানো পার্টিতে ডেকে এদের দিয়ে না জিজ্ঞেস করালেও পারতে, আমি কে? যেকোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া বাচ্চাদের ম্যানেজমেন্ট, একজন গৃহিণীর জন্য এটা খুব সহজ কাজ না। আমি কে—এটা নিয়ে কথা বলার মতো মানুষ আমি এখনও হতে পারি নাই। তাই তোমার সান্ডা-পান্ডাদের নিজের নামটা বলতে পারি নাই।’
সবশেষে অভিমানের সুরে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘যদিও আমি গিয়েছিলাম এবং চলেও এসেছি। অন্যসময় কোথাও দেখা হবে।’
পরীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব (সস্ত্রীক), কায়েজ আরজু, বারিশা হক, তমা মির্জাসহ কাছের বন্ধুরা। সবাই ফুল ও শুভেচ্ছায় পরীমণিকে অভ্যর্থনা জানান, নায়িকাও সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, পরীমণির জন্মদিন ছিল গত ২৪ অক্টোবর। তবে জন্মদিনের উৎসব শুরু হয়েছিল চারদিন আগেই, ২১ অক্টোবর থেকে। সেদিন তার মেকআপ আর্টিস্ট অর্ক আগাম কেক কেটে তাকে চমকে দেন।
এরপর ২৩ অক্টোবর পরীমণি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন এবং ২৪ অক্টোবর জন্মদিনটি লাংকাউই দ্বীপে সহকর্মীদের সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন।