শিল্প বিপ্লবের পর বিশ্বজুড়ে বেড়েছে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ।
শিল্প বিপ্লবের পর বিশ্বজুড়ে বেড়েছে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ। পরিবেশবিদরা বলছেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতই বিশ্বের অধিকাংশ কার্বন দূষণের জন্য দায়ী।
প্রধান ৫টি কার্বন দূষণকারী খাত
বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নিঃসরণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত পাঁচটি শিল্প খাত হলো: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, গ্যাস, তেল) ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিশ্ব কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৪২% এর জন্য দায়ী।শিল্প উৎপাদন (সিমেন্ট, ইস্পাত, কেমিক্যাল): ভারী শিল্পের উৎপাদনে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর CO₂ তৈরি হয়। বিশেষ করে সিমেন্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ।
পরিবহন খাত: বিমান, জাহাজ, প্রাইভেট গাড়ি সব মিলিয়ে বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের ২৫% হয়ে থাকে পরিবহন খাতে।
কৃষি ও প্রাণী পালন: ধান চাষে মিথেন গ্যাস নির্গমন ও গবাদিপশুর জৈব নিঃসরণ এই খাতকে একটি বড় দূষণ উৎসে পরিণত করেছে।
বন উজাড় ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন: বন কেটে কৃষিজমি বা বসতভিটা তৈরি করলে ‘কার্বন সিংক’ হারিয়ে যায়, ফলে বাতাসে কার্বনের মাত্রা বাড়ে।
পরিবেশ বিশ্লেষক ড. শামসাদ কবির বলেন, “আমরা যেসব পণ্য প্রতিদিন ব্যবহার করি, তার বেশিরভাগই এই পাঁচ খাত থেকে আসে। তাই সচেতনতা ও নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কার্বন কমানো অসম্ভব।” আপনি কি জানতেন আপনার ব্যবহৃত মোবাইল বা পোশাক তৈরির পেছনেও রয়েছে কার্বন দূষণের বড় ভূমিকা?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে পোশাকশিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষিখাতের বিকাশ উল্লেখযোগ্য হলেও এর প্রভাবে কার্বন নিঃসরণও দ্রুত বাড়ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে। নীতিনির্ধারকরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্রীন প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে অগ্রগতি ধীর।
উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকারি উদ্যোগ: গ্রিন ফ্যাক্টরি সার্টিফিকেশন চালু হয়েছে কিছু শিল্পে।
বেসরকারি উদ্যোগ: কিছু উদ্যোক্তা সৌর বিদ্যুৎ ও ইভি-ভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ শুরু করেছেন।
আন্তর্জাতিক চুক্তি: বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ১৫% কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।