বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় চলমান বিশ্বকাপের ম্যাচ রেফারির তালিকা থেকে বাদ পড়তে হয়েছে তাকে। তবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত পুরো পারিশ্রমিকই পাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ রেফারি।
মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর গত সোমবারই এই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েন আর্তান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে প্রায় ১১ ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, তিনি দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, সোমালিয়ার উগ্রপন্থী সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্তাধীন কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে আর্তানের কথিত যোগাযোগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন তিনি।
ঘটনার পর হতাশা প্রকাশ করে আর্তান বলেন, ‘আমার সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। আমার বৈধ ভিসাও ছিল। আমি শুধু একজন রেফারি, যে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন; বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগ—পূরণ করতে চেয়েছিল।’
প্রবেশে বাধা পাওয়ার পর তাকে তুরস্কগামী একটি ফ্লাইটে পাঠানো হয়। পরে ইস্তাম্বুলে ফিফার প্রতিনিধিদের সহায়তা পাওয়ার পর তিনি নিজ দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যান।
তবে এই ঘটনায় আর্থিকভাবে কোনো ক্ষতির মুখে পড়ছেন না তিনি। ফিফা তার জন্য নির্ধারিত পুরো পারিশ্রমিক বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপ রেফারিদের পারিশ্রমিক টুর্নামেন্ট শেষে দেওয়া হয় এবং ম্যাচ পরিচালনা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারিত হয়।
ফিফার এই সিদ্ধান্তকে তার পেশাদার অবদানের প্রতি সম্মান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সী ওমর আর্তান ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হন।
এর আগে তিনি প্রথম সোমালিয়ান হিসেবে কোনো মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল পরিচালনা করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিরামিডস এফসি ও মামেলোদি সানডাউন্সের ম্যাচ পরিচালনা ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন।
বিশ্বকাপ মঞ্চে অভিষেকের স্বপ্ন থাকলেও তা আর পূরণ হলো না। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্ত তার দীর্ঘ পেশাদার যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।