ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬–এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাদণ্ডের সঙ্গে সম্রাটকে দুই ধারায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি ধারার সাজার পরই অন্য ধারার সাজা কার্যকর হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া মানিলন্ডারিংয়ের দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
তিনি আরও জানান, দুই ধারার সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে। ফলে সম্রাটকে মোট ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন বিচারক।
এদিকে সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পলাতক থাকায় তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি এবং যুক্তিতর্কও উপস্থাপন করতে পারেননি।
দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নিজেই মামলাটি তদন্ত করেন। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ১৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সম্রাট আত্মগোপনে যান। পরে ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ওই অভিযানে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, এক হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া ও ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব। ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া ঢাকার রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১১ মের মধ্যে চার মামলায় জামিন পান সম্রাট। কারাগারে যাওয়ার ৩১ মাস পর তার মুক্তি মেলে।