সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা একটি মামলার চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, তদন্তে লুৎফুল তাহমিনার নামে মোট ১৮ কোটি ৪৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৭৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি তার পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা। ফলে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি নয় লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকা।
জানা যায়, এই সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র পাঁচ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ টাকা। এর ফলে তার নামে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে বলে দুদক জানায়।
মামলায় বলা হয়, বর্ণিত সম্পদের বৈধ উৎস না থাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে তার স্ত্রীকে এসব সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।
এ ছাড়া তদন্তে লুৎফুল তাহমিনার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া ছয় কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকার উৎস সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, ঘুষ বা উৎকোচ হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ লেয়ারিং ও রূপান্তরের মাধ্যমে ওই হিসাবে জমা করে অবৈধ উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
দুদক জানায়, এভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকা ও সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের ছয় কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকাসহ মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকার অর্থ বা সম্পদের উৎস গোপন করে অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক।