প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তৃতীয় দফায় তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিত আজাদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরের দিন ২৬ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তার এ মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর পর, গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছাত্র-জনতার সঙ্গে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান নেন। এ সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০/৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা শান্তিপূর্ণ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন দিক হতে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে ভিকটিমের অবস্থার অবনতি হলে, পরদিন ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় ভিকটিম দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।