জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতাসহ সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও মৌলিক মতপার্থক্যের কথা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সাত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল পদত্যাগপত্র পেয়েছেন বলে বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিন সহকারী আইন কর্মকর্তা ও বাকি ১৫ জন জুলাই সনদসহ একই কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমি দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখছি তারা পদত্যাগপত্রে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যেটি একটি রাজনৈতিক দল এবং তারা যে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন সেই দলেরই রাজনৈতিক এজেন্ডা। এই কথা উল্লেখের মাধ্যমে এতোদিন পর্যন্ত তারা রাষ্ট্রের পক্ষে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, তাদের নিরপেক্ষতা, সততা, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি তাদের নিষ্ঠাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
পদত্যাগ করা ১৮ আইন কর্মকর্তারই জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছে বিবিসি বাংলা। মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নামের এই ডিএজি পদত্যাগপত্রে বলেছেন, ‘সতর্ক বিবেচনার পর, আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, বর্তমান সরকারের কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং অবস্থানের বিষয়ে মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে আমি আর এই পদে বহাল থাকতে পারছি না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জনগণের দ্বারা ব্যক্ত ম্যান্ডেট বা রায় ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিচার বিভাগের জন্য একটি সমানভাবে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের বিরোধিতা এবং বিচারিক স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সরকারের অবস্থানের কারণেও আমি সমানভাবে উদ্বিগ্ন।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, বিবেকের কাছে পরিষ্কার থেকে পদের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে নিজেকে অক্ষম মনে করে ডিএজি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। একইসঙ্গে পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করার মাধ্যমে গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।