ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে এখন স্বাস্থ্য পরীক্ষা আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। সেই রুটিন চেকআপেই অনেক মানুষ প্রথমবার জানতে পারছেন যে, তাদের লিভারে চর্বি জমছে। বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও ভেতরে ভেতরে শুরু হয়ে যায় ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। চিকিৎসা জরুরি, সন্দেহ নেই। তবে চিকিৎসকদের পাশাপাশি পুষ্টিবিদদের একটি কথা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে, খাবারের থালায় সামান্য পরিবর্তন অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
শীতকাল এলেই যে সবজিটি প্রায় প্রতিটি ঘরেই ঢুকে পড়ে, সেই মুলাকেই লিভারের যত্নে ‘সুপারহিরো’ বলছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ নামামি আগারওয়াল। তার মতে, দামি ডিটক্স ড্রিংক বা সাপ্লিমেন্টের দিকে না ছুটে এই সাধারণ সবজিটিই ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যায়, মুলা প্রাকৃতিকভাবে লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে। যাদের দীর্ঘদিন অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বা মানসিক চাপের কারণে লিভার অতিরিক্ত চাপে থাকে, তাদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী হতে পারে। নিয়মিত মুলা খেলে লিভার আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ পায়।
মুলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। ফ্রি র্যাডিকেল লিভারের প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ। সে দিক থেকে মুলা প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
লিভারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্তরস তৈরি ও নিঃসরণ। এই পিত্তরসই শরীরে চর্বি হজমে প্রধান ভূমিকা রাখে। মুলা পিত্তরসের প্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে চর্বি সঠিকভাবে ভাঙে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমতে পারে।
মুলায় থাকা গ্লুকোসিনোলেটস নামের প্রাকৃতিক যৌগ প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। এই উপাদানগুলো এমন কিছু ক্ষতিকর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মুলা থাকলে লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
কীভাবে খাবেন মুলা
খাদ্যতালিকায় মুলা যুক্ত করাও বেশ সহজ। সকালে খালি পেটে মুলার রস পান করা যেতে পারে, কিংবা সকালে মুলা ভেজানো পানি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া কাঁচা মুলা সালাদে যোগ করা বা প্রতিদিনের রান্নার অংশ হিসেবেও এটি খাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মুলা কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। এটি লিভারের ডিটক্স, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি বিপাকে সহায়তা করলেও একে একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ থাকতে সব সময় দামি বা জটিল কিছু দরকার হয় না। অনেক সময় পরিচিত, সহজলভ্য খাবারই হতে পারে শরীর ভালো রাখার সবচেয়ে বড় সহায়ক।
সূত্র: এনডিটিভি