ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা রেখে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, নতুন সংসদে এখনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়ায় চিরাচরিত নিয়মে অধিবেশন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে এদিন বেলা ১১টায় প্রথমে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে এবং স্পিকারের আসন খালি রাখা হবে। এরপর সংসদ নেতা তারেক রহমান একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সাময়িকভাবে অধিবেশন সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করবেন। প্রস্তাবটি সমর্থনের পর ওই সদস্য অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রস্তাবের পর সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেতাই নেবেন এবং তা আগামীকাল জানা যাবে।
অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, ডেপুটি স্পিকার সভাপতিমণ্ডলীর জন্য পাঁচজন সদস্য মনোনয়ন দেবেন। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এসময় বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়াসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হবে।
চিফ হুইপ জানান, প্রথম অধিবেশনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী সেগুলো উত্থাপন করবেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের যে নথিপত্র সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি, তার মধ্যে কর্ম কমিশনের একটি কাগজও উপস্থাপন করা হবে। অধিবেশন শেষে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন। এরপর দিনের কার্যসূচি মুলতবি করা হবে।
অধিবেশন চলাকালে দুটি বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে কার্য-উপদেষ্টা কমিটি এবং একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের যেকোনো সমস্যা রাজপথে নয়; সংসদের ভেতরে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধান করতে চায় সরকার।
এজন্য সংসদে গঠনমূলক আলোচনা এবং সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারি ও বিরোধী দল মিলেমিশে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশা।
সংসদের সব কার্যক্রম কঠোরভাবে সংসদীয় বিধি ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করেন করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে বিরোধী দলের সাড়া নেই
ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য বিরোধী দলকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, ডেপুটি স্পিকারের পদ নিতে আপাতত তারা আগ্রহী নয়। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে জামায়াতের সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তারা এ কথা জানান।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।