চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, মিরপুর-১০-এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও চীনের যৌথ উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন।
ফেসবুক পোস্টের এডিট হিস্ট্রিতে দেখা যায়, বিষয়টি কয়েক ধাপে সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্করণে বলা হয়েছে, ‘আজ ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ঢাকাস্থ চায়না এম্বাসির পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫-এর জনসাধারণের জন্য ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়। এসময় জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চায়না এম্বাসির মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) এবং চায়না এম্বাসির পলিটিক্যাল ডিরেক্টরসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।’
এ ছাড়া জামায়াতের পেইজে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি চীনের উদার সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই খাদ্যসামগ্রী চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন। দলীয় পর্যায়ে সম্পর্ক জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।’
অন্যদিকে চীনা দূতাবাসও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একই অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস।’
এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের এই উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চীনা দূতাবাস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানায়, ‘বাংলাদেশের চীনা রাষ্ট্রদূতের অংশ নেওয়া একটি দাতব্য অনুষ্ঠানের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু কনটেন্ট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এ বিষয়টি আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি। আমরা আবারও বাংলাদেশ সম্পর্কে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করছি এবং জোর দিয়ে বলছি, নির্বাচিত সরকারের নির্বিঘ্ন শাসন পরিচালনাকে আমরা সমর্থন করি। আমাদের দুই দেশের জনগণের আরও বেশি কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আমরা ভবিষ্যতেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’
চীনা দূতাবাসের এক ইংরেজি বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, ‘১৭ মার্চ ঢাকার বাসিন্দাদের মাঝে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। চীন ও বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের একটি সম্প্রদায়; তাই দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বাড়াতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে চীন ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক আরও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাবে।’