পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আগে’ নীতিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা তাদেরকে ঘিরে রেখেছি, তারাও আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে তিন দিকে, আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী, তাদের সাথে আমাদের ইস্যু আছে, বর্ডার ইস্যু আছে, পানি নিয়ে ইস্যু আছে, বিভিন্ন ইস্যু আছে, ট্রেড ডেফিসিট আছে। এইসব সমস্যার যদি আমাদের সমাধান করতে হয়, অবশ্যই কথাবার্তার মাধ্যমে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে আমাদের করতে হবে। সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমরা কাজ করবো, আমাদের স্বার্থ আমাদের সম্মান আমাদের সমতার ভিত্তিতে সবকিছু হবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের ফরেন পলিসিটাই ভিন্ন ছিল বিগত দিনে। আমার মনে হয়, ভারত ওই জায়গাটা থেকে সরে এসেছে এবং তারা বুঝতে পারছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রাখতে হলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রাখতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রাখতে হবে। সেই জায়গাটায় মনে হয় ভারত কাজ করছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করছি এবং ভারতের সাথেও সেটার ব্যত্যয় হবে না।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি যেটা হয়েছে, সেটা আমাদের অর্থনীতিকে ডিরেক্টলি এফেক্ট করে। মানে আমাদের বিশাল একটি তৈরি পোশাক খাত রয়েছে, যেটা আমরা বাইরে রপ্তানি করি। এখন আমেরিকা চাচ্ছে যে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে, আমদানি ঘাটতি কমাতে চায়, অনেক কিছু চাচ্ছে। সেটাতে আমরা রাজি হয়েছি। কিন্তু আমাদের প্রাইভেট সেক্টর যেন সুরক্ষিত থাকে। দেশের জনগণের ক্ষতি না হয়, সেভাবে আমরা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি।’
সার্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্ক ছিল শহীদ জিয়ার একটা ভিশন। সার্ক যদি এত বছর সচল থাকতো, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী জায়গায় যেতে পারতো। অবশ্যই আমরা সার্ক পুনুরুজ্জিবিত করতে চাই। আমাদের ম্যানিফেস্টোতে পরিষ্কারভাবে এটা লেখা আছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে আমরা কানেক্টিভিটির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভিতরকার ট্রেড, কমার্স, কালচার, স্পোর্টস সব দিক দিয়ে আমাদের কানেক্টিভিটিটা বাড়াতে চাই। সার্কের একটা ফাংশনাল বডি আমরা পরিণত করতে চাই। যেই স্বপ্নটা শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়েছিলেন। সেই জায়গাটা অবশ্যই আমরা কাজ করবো।’