এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার তিনটি বিচারাধীন হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় আরও তিনটি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটিসহ আটটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তদন্তাধীন একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতয়ালী, মিরপুর মডেল ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
তাকে ডিবির তদন্তাধীন পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একইসাথে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি মানব পাচারের অভিযোগের।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পান। জাপার মনোনয়নে নির্বাচন করেন।