দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ক্ষমতাবলে দেশের ১৪ জেলা পরিষদে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
একজন জেলা প্রশাসক এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক, এই দুটি পদের কাজ ও দায়িত্বের মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল লক্ষ্য হলো জেলার উন্নয়ন ও শাসন নিশ্চিত করা। নিচে তাদের বিস্তারিত কাজের পরিধি তুলে ধরা হলো:
১. জেলা পরিষদের প্রশাসকের প্রধান কাজসমূহ:
যখন কোনো নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয় বা মেয়াদ শেষ হয়, তখন সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মূল দায়িত্বগুলো হলো-
• পরিষদের কার্যাবলি পরিচালনা: নির্বাচিত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে জেলা পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যাবলি পরিচালনা করা।
• উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন: জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট মেরামত, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
• সমন্বয়কের ভূমিকা: জেলার অন্তর্গত উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
• সরকারের প্রতিনিধি: সরকারের গৃহীত বিশেষ কোনো কর্মসূচি বা সংস্কারমূলক কাজ জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা।
২. জেলা প্রশাসকের সামগ্রিক ও বিস্তারিত কার্যাবলি:
একজন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মূলত একটি জেলার ‘চিফ এক্সিকিউটিভ’ হিসেবে কাজ করেন। তার কাজগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ক. রাজস্ব সংক্রান্ত:
• কালেক্টর হিসেবে: তিনি জেলার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাস জমি ব্যবস্থাপনা এবং সায়রাত মহাল (হাট-বাজার, জলমহাল) বন্দোবস্ত দেওয়া তার কাজ।
• ভূমি রেকর্ড: জেলার ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদকরণ তদারকি করা।
খ. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা:
• জেলা ম্যাজিস্ট্রেট: তিনি জেলার প্রধান শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
• মোবাইল কোর্ট: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের সাজা প্রদান নিশ্চিত করা।
গ. সমন্বয় ও উন্নয়ন:
• বিভাগীয় সমন্বয়: জেলার প্রায় সব সরকারি দপ্তরের কাজের সমন্বয়কারী হলেন ডিসি। শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা খাতের কাজগুলো তিনি তদারকি করেন।
• ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার কাজ পরিচালনা এবং সরকারি ত্রাণ বণ্টন তার প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
ঘ. শিক্ষা ও পরীক্ষা তদারকি:
• জেলার পাবলিক পরীক্ষা (যেমন- এসএসসসি, এইচএসসি) সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মূল দায়িত্ব তার। এছাড়া সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
ঙ. প্রটোকল ও নির্বাচন:
• রিটার্নিং অফিসার: জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তিনি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
• ভিআইপি প্রটোকল: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জেলা সফরের সময় নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করা।
অনেক সময় সাধারণ মানুষ মনে করেন জেলা প্রশাসক মানেই জেলা পরিষদের প্রধান। আসলে তা নয়। জেলা পরিষদ হলো স্থানীয় সরকারের একটি স্তর। আর একজন ডিসি মূলত একটি জেলার ‘চিফ এক্সিকিউটিভ’ হিসেবে কাজ করেন।