সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একমাত্র পথ হলো সংবিধান মেনে চলা।
সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রোববার (৫ এপ্রিল) এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ভবিষ্যতের পথ রেখা—একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জননের বিষয়ে তিনি প্রস্তাবটি আনেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব কিছুই—সরকার গঠন, সংসদ ও সব সংসদ সদস্য সংবিধানের অনুযায়ী এসেছে, কিন্তু এখন সংবিধানকে উপেক্ষা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কীভাবে?’
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে লেজিসলেটিভ ফ্রড ও কালারেবল লিজিসলেশন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ৩৩টি রাজনৈতিক দল কর্তৃক অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন করতে, কিন্তু আদেশটি পূর্বে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্মত সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেনি।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের কোনো প্রয়োজন নেই, জনগণের নির্দেশ অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন, যাতে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের জন্য কাজ করতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চম সংশোধনী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিরোধীদলকে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চম সংশোধনী শাহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছে।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন নেই। এই সনদ স্পষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয় এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করতে পারে না।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে আইনটি সংবিধান ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করবে, সেটি প্রয়োগযোগ্য নয়। জুলাই সনদ হলো জনগণের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় দলিল নয়।’
সংসদে বিরোধীদলের নেতা শফিকুর রহমান মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ করেন। কারণ একই প্রস্তাব আগেও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাবের পরিণতি কী হয়েছে তা জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), আন্দালীব রহমান (ভোলা-১) আলোচনায় অংশ নেন।
১ এপ্রিল সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রস্তাব উত্থাপনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) আলোচনার জন্য প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং ৫ এপ্রিল আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।
প্রস্তাব উত্থাপন করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘এই জুলাই জাতীয় সনদ হলো ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফল। এটি আমাদের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ।’
তিনি আরও বলেন, সনদটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা বিভিন্ন আইন ও সংবিধান সংশোধনের স্পষ্ট প্রস্তাবনা দেয়। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।