আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধিত) অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বুধবার (৮ এপ্রিল) সোয়া ১২টার দিকে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এদিন সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশের আলোকে বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচারের পথ সুগম হবে।
বিল পাসের পর এ বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত বিধিমালা ও প্রয়োগ পদ্ধতি শিগগিরই জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।