দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং বর্তমানে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানির পূর্ণ মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে জুন মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত-অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহও বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আগামী দুই মাসের জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস ওয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্কের কারণে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।