জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে বলেও জোর দিয়ে বলা হয়েছে। ভারত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমসের শনিবারের (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থানে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা গেছে। ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান এবং তখন থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথম তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অনুরোধটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকব।’
এ ছাড়া এ মাসে বাংলাদেশের সংসদে পাস হওয়া একটি আইনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির অগ্রগতি খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ এই আইনটি অন্তর্বর্তী সরকারের আরোপিত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে আইনি ভিত্তি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খলিলুর রহমানের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পক্ষ ‘শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে’। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধনী) বিল ২০২৬-এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা সত্ত্বাকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। তবে এই আইনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ নেই এবং এটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।