দুই মাসের ব্যবধানে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালেহ শিবলী এসব কথা বলেন। বিএনপি সরকারের বিগত দুই মাসের সাফল্যের সাতটি বিষয় তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ সময় সালেহ শিবলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন ও সাধারণ জীবনযাপন বজায় রাখছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রটোকল এড়িয়ে চলছেন। সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো বাংলাদেশের জনগণ তারেক রহমানকে বিশ্বাস করেছেন এবং তিনিও জনগণের ওপর আস্থা রেখেছেন।’ তার মতে, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা সরকারের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, ‘দেশসেবার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন গত দুই মাসে সরকারের নেওয়া ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, অর্থনীতি, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
তিনি জানান, সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘৬০ দিনে ৬০টি কাজ’ বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি ১১৩টি অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে এবং খাল খনন কর্মসূচিও চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে, এ ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সরকারের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট বাস্তবায়ন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ মওকুফ, সারা দেশে নদী-খাল পুনঃখনন উদ্যোগ, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ভাতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের জন্য নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ, শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা নিশ্চিতকরণসহ নানা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয়।
অর্থনৈতিক খাতে সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা ও হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে ভর্তি ফি বাতিল, বৃত্তি বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইনভিত্তিক সেবা চালু, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন, চাঁদাবাজি দমনে ব্যবস্থা ও বাক্স্বাধীনতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সরকার কাজ করছে।