সরেজমিনে রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ২০টি পয়েন্টে চামড়ার বেচাকেনা চলছে। পিকআপ, অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশায় করে চামড়া এনে বিভিন্ন অস্থায়ী আড়তে স্তূপ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও দামে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সেখানে প্রতি পিস চামড়া ৫০০, ৫৫০, ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কোরবানির পশুর চামড়ার মৌসুমে রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় চামড়ার বেচাকেনা জমে উঠলেও দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে চামড়া কিনে সাইন্সল্যাবে এনে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার নায্য দাম মিলছে না।
সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে প্রতিটি চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কিনে সাইন্সল্যাবে এনেছিলেন দুই ব্যক্তি আমিন ও সোবহান। সেখানে ক্রেতারা চামড়া প্রতি ৫০০ টাকা দাম বলায় তারা বিপাকে পড়েন। আমিন বলেন, সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলছে। ৭০০ টাকা পর্যন্ত দরে চামড়া কিনে আনার পর ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বলছে। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি লাভে চামড়া বিক্রি করতে পারেননি।
একই অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার গরুর চামড়া, প্রায় ১০০ পিস আছে। কিন্তু এখানে সবাই ৫০০ টাকা করে কিনতে চাচ্ছে। সোবহান বলেন, সব ক্রেতা সিন্ডিকেট করে একই দাম বলছে। সরকারকে অনুরোধ- এই সিন্ডিকেট ভাঙার।
তবে এর মধ্যেও কেউ কেউ সামান্য লাভে বিক্রি করতে পারছেন। জাকির হোসেন জয় বলেন, "মোহাম্মদপুর এলাকার মাদ্রাসা থেকে ২০টি চামড়া কিনে এনেছি। ৫০ থেকে ১০০ টাকা সামান্য লাভে বিক্রি করছি। বড় গরুর চামড়া ৭০০ টাকা করে বিক্রি করেছি।"
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিকেল ৫টার পর থেকে দাম আরও পড়ে যায়। এ সময় কিছু চামড়া প্রতি পিস মাত্র সাড়ে ৩০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, যারা কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন, তাদের দ্রুত বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, "সকালে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া সন্ধ্যার পর থেকেই নষ্ট হতে শুরু করে। ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে গুণগত মান কমে যায় এবং দামও কমে যায়।" তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ট্যানারি মালিকদের, তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু কাঁচা চামড়াও কেনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সরকারের নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। এছাড়া খাসির প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ বেশি হওয়া এবং ট্যানারি পর্যায়ে প্রত্যাশিত চাহিদা না থাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।