স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নিদোর্ষ দাবি করেছেন শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা। সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ পড়ে শোনানোর সময় এ দাবি করেন তিনি।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর এজালাসে তোলা হয়। শুনানি শেষে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে মঙ্গলবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের কথাও জানানো হয়।
এসময়, দুই আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রথমে সোহেল রানাকে অভিযোগ পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। বলেন, ‘এই অভিযোগ মোতাবেক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন।’ তখন রানা জোরাল কণ্ঠে বলে, ‘আমার কিছু বলার আছে।’ তবে বিচারক তাকে সে সুযোগ দেন না।
একইভাবে স্বপ্নাকে অভিযোগ পড়ে শোনালে তিনি কাঠগড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তখন হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সোহেল রানাকে বলেন, ‘আপনি কন আমি কিছু করছি?’ তখন সোহেল রানা বিচারককে বলেন, ‘আমার স্ত্রী নির্দোষ।’
এদিকে আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতে আসামিদের অব্যাহতির দাবি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, এ মামলায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। ভিকটিমের শরীরে আসামি সোহেলের শুক্রাণু নেই।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের শুনানি করে বলেন, আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে। অভিযোগ গঠনের আদেশ চাচ্ছি। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ মামলায় আগামীকাল ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ। এরপরে সিএমএম আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। অভিযোগপত্রে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।