সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ ঘোষণা দেন তিনি।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’য় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সব ধরনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ এবং যোগ্যতাই অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আমি উল্লেখ করতে চাই, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবত একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই ধারাবাহিক সংস্কার কেবল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিবেশ উন্নত হবে, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ—সব স্তরের উদ্যোগে নতুন গতি আসবে, উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের পরিসর বিস্তৃত হবে।’
আমির খসরু বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ, সুশাসন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির যে পথ আমরা গ্রহণ করেছি, এই অধ্যায়ে বর্ণিত পদক্ষেপসমূহ তারই বাস্তব ভিত্তি নির্মাণ করবে।’
এ ছাড়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মন্দার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশও অর্জন করবে।’
আমির খসরু বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। এ জন্য সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রস্তাব দাঁড় করিয়েছে।’