শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চলতি সপ্তাহে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠককে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা, কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় নেতা শ্রমশক্তি ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করবে এবং আসিয়ান কাঠামোর মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে ফিলিস্তিন, গাজা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই নেতার উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষণা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহায়তা সংক্রান্ত দুটি নথি বিনিময় করা হয়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২.১৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত। মালয়েশিয়ার রপ্তানির প্রধান অংশ ছিল পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, আর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও পাদুকাসহ বিভিন্ন পণ্য।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় এই বৈঠক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।