চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বুধবার (১ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
এ সময় পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, গত ১৭ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা মনে করছি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং সফরের পর দেশটিতে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি আরও জানান, চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ ও অর্থনৈতিক করিডোর এবং তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে উপকারী হলে সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র সম্পর্ক বজায় রাখার নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। একটি দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।