আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আই হ্যাভ দ্য প্ল্যান’ বলেছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবার আগে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
মতবিনিময় সভা শেষে মাগুরা সদর উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন উপকারভোগীর মধ্যে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার, গাছের চারা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ১২২ জন শিক্ষার্থীর হাতে বাইসাইকেল, ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন এবং ১৪২টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০টি সেলাই মেশিন, ২০টি হুইলচেয়ার এবং ১০টি ক্রিকেট সেট দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপকারভোগীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মোল্লা আজাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করা, গ্রামীণ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা এবং খেলাধুলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপকারভোগীদের মধ্যে শিক্ষার্থী রাফি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পরিবারের পক্ষে সাইকেল কেনা সম্ভব ছিল না। সরকারি সহায়তায় সাইকেল পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত।
সেলাই মেশিন পাওয়া প্রীতি রানী বলেন, এই সেলাই মেশিন ব্যবহার করে তিনি সংসারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবেন।
হুইলচেয়ার পাওয়া প্রতিবন্ধী রাব্বি হাসানের নানি জানান, অর্থের অভাবে নাতির জন্য হুইলচেয়ার কিনতে পারেননি। সরকারি সহায়তায় হুইলচেয়ার পেয়ে তাদের অনেক উপকার হয়েছে।
ক্রিকেট সেট পাওয়া রাকিবুল হাসান বলেন, খেলাধুলার সুযোগ পেয়ে তিনি খুব খুশি এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।