দেশের আরও ১০ জেলায় মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু হয়েছে। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর ধারা ২১(খ) অনুযায়ী বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইলে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-কেইস মেডিয়েশন) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ১০ জেলার জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ লিগ্যাল এইড ও লিগ্যাল এইড কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এর মাধ্যমে দেশের বিচারপ্রার্থী অসহায় মানুষের আইনি সেবা প্রাপ্তির অধিকার আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়ভার থেকে মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন।
আইনগত সহায়তা প্রধান আইনের তফসিলভুক্ত সাতটি বিষয়ে আদালতে মামলা দায়েরের তথ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, এরমধ্যে প্রকল্পভুক্ত ২০ জেলায় স্পেশাল মেডিয়েটরের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রমে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।
আইন অনুযায়ী পারিবারিক আদালত আইন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, সিভিল জজ আদালতে এক্তিয়ারভুক্ত বণ্টন সম্পর্কিত বিরোধ, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্টের সেকশন ৯৬ এ উল্লেখিত অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ, নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি অ্যাক্টের সেকশন ২৪ এ উল্লেখিত অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ, পিতা-মাতার ভরণ পোষণ সম্পর্কিত বিরোধ, যৌতুক সম্পর্কিত অভিযোগের মামলা গত বছরের চার মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে মে) ছিল ১১ হাজার ২৮০টি, চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৪ হাজার ২৮৪টি। নতুন মামলা দায়েরের হার শতকরা ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ কমে গেছে। এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের অন্য সব জেলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু হবে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।