পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে এ বিষয়ে করা প্রশ্নকে ‘বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
পদত্যাগ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি সংক্ষেপে বলেন, ‘দেখতে পাবেন... প্রশ্নটা বিব্রতকর।’
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। এ বিষয়ে স্পিকার বর্তমানে দেশে আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার জানা নেই স্পিকার দেশে আছেন কি না। এটা আমার জানার কথা না।’
সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন—এমন অভিযোগও নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও যদি মাথা খারাপ হয়, সে এ ধরনের কথা বলতে পারে।’
নিজের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি তখন মৃতপ্রায়, চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের অভিযোগও উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন রাষ্ট্রপতি।
এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক বিধান বা স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে তার সেই সুযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথোপকথনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো কথা বলেছেন কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকার থেকে কোনো ধরনের অনুরোধ বা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।