জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার ধরে–বেঁধে ফিরিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ সময় নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ইস্যুতেও কথা বলেন তিনি। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) রাজধানীতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে ধরে–বেঁধে ফিরিয়ে আনতে চাই। একই সঙ্গে সব ধরনের আইনগত অধিকার তিনি পাবেন; তাও বলছি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার অনুসারী অনেকে আছেন। চাইলেই সবাইকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হবে। বিরত থাকার আহ্বান জানাবো। প্রচার করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই সরকার কোনো জিও পলিটিক্যাল চাপে নেই। কোনো সংকট নেই। আগের সরকার কিছু দেশের সঙ্গে ক্ষমতায় থাকার জন্য নেগোসিয়েশন করে থাকতো; কিন্তু এই সরকারের তা নেই। কারণ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এই সরকার।
ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তাকে দেশে আনার জন্য সরকারের কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেই। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন, এরপর সরকার আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।
তসলিমা নাসরিন অতীতে যাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি যদি দেশে ফিরে আদালতের আশ্রয় নিতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী সেই সুযোগ পাবেন। ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি চাইলে আদালতে মামলা করতে পারবেন।