‘বিদ্বেষমূলক’ না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে আইসিটি আইন অনুযায়ী ‘বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্যে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।’
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ করে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুসরণ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হবে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘সারাদেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।’
বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে (পিক এন্ড চুজ) আসামি করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা গেলে সেটি পুণঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। কারো এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
পলাতক ব্যক্তিদের বিচার চলছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘পলাতকদের না পাওয়া পর্যন্ত রায় কার্যকরের সুযোগ নেই। সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ জরিমানার আদেশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে সারাদেশে ক্রসফায়ারের যে তিন হাজারের বেশি ঘটনা ঘটেছে, সেসব মামলার অনেকগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।’