ভোটার তালিকা হালনাগাদ বিলম্বিত, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে জটিলতা, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহে গতি নেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এই মুহূর্তে নির্ধারিত সময়মতো সম্পন্ন হবে না। তার ভাষ্য, “আমাদের লক্ষ্য ছিল জুন মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষ করা, কিন্তু নানা জটিলতায় এটি বিলম্বিত হয়েছে। নতুন তালিকা ডিসেম্বরের মধ্যেই দেওয়া হবে।”
ভোটার তালিকা হালনাগাদ দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান অংশ, যা জাতীয় নির্বাচনের নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই বিষয়ে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা প্রকল্পটির গতি ধীর করে তুলেছে। নির্বাচনী সরঞ্জাম যেমন ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ও ব্যালট পেপার সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সময়ানুবর্তিতা নেই। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি এবং সরবরাহকারীদের সাথে দরকষাকষি চলছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই অবস্থায় নির্বাচনের সময় নির্ধারিত মেয়াদে পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভোটার তালিকা না হলে নির্বাচন শুরুর অনুমতি দেওয়া কঠিন। এছাড়া সীমানা নির্ধারণ ও সরঞ্জাম জটিলতা নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।” একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের পরিবেশ ও স্বচ্ছতা নিয়ে ইতোমধ্যেই তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাইয়ের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক বাধা দূর করতে কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
সিইসির বক্তব্য (সংক্ষিপ্ত):
“আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রকৃত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিকল্পনা সংশোধন করতে হতে পারে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণের কাজেই সময় বেশি লেগেছে। আশা করি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতামত:বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “নির্বাচন কমিশনের এই বিলম্ব এবং প্রস্তুতির ধীরগতির কারণে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে।”