দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পানিবন্দি লাখো মানুষ; নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে উদ্ধার অভিযান চলছে
টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নিলফামারী জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলা পানির নিচে চলে গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০-৭০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
পানিবন্দি প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ:
বিভিন্ন জেলার ৩০টির বেশি ইউনিয়নে মানুষ এখনো আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাজার, স্কুল, মসজিদ ও ক্লিনিক পানির নিচে।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার:
সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে:পানি জমে থাকার কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, সাপের কামড় ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিটি জেলায় মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে।
চাষাবাদে ক্ষতি:কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যার কারণে ধান, পাট, শাকসবজির বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে গেছে। ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের আশ্বাস:দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, "বন্যাকবলিত প্রতিটি মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেউ যেন অনাহারে না থাকে তা নিশ্চিত করতে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।"
স্থানীয়দের আকুতি:উত্তরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন ও নগদ সহায়তার দাবি জানাচ্ছেন। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে রাস্তার পাশে বা বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।