নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে, বাড়ছে অনৈতিক লেনদেন
ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না এটাই যেন নিয়ম
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, পাসপোর্ট নবায়ন, ভূমি রেকর্ড, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা শিক্ষা সনদের সত্যায়ন—প্রায় প্রতিটি সরকারি সেবায় ঘুষের দাবি এখন ওপেন সিক্রেট। বিভিন্ন দপ্তরে দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যারা নির্ধারিত হারে অর্থ ছাড়া সেবা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে রাখে।
একজন নাগরিক বলেন,
“ফরম ঠিক আছে, কাগজ ঠিক আছে, তবুও কাজ হয় না। টেবিলের নিচে টাকা না দিলে কোনো ফাইল নড়ে না।”
জবাবদিহিতার ঘাটতি এবং প্রশাসনিক নীরবতা
ঘুষের অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্ত হয় না, কিংবা তদন্ত হলেও ব্যবস্থা গ্রহণ হয় না। দুর্নীতিবিরোধী দপ্তরের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ “নথি যাচাই” পর্যন্ত।
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“নিম্নস্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ওপরের সাপোর্ট না থাকলে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।”
ঘুষের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মতে,
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে কাগজে নয়, বাস্তবে। প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতে হবে।”
তারা আরও বলেন, জনগণকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।
ঘুষ শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, এটি একটি নৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। সরকারি সেবায় জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।