বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে। এভারকেয়ার থেকে শুরু করে জানাজা-দাফনের পুরো প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, খালেদা জিয়ার দাফন ও জানাজা—সব কিছু পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য থাকবে।
তিনি আরও জানান, জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা, বিএনপি নেতা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন। সংসদ ভবন, বাংলাদেশের দূতাবাস ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে।
এর আগে দুপুরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার দাফন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ সভায় বসেন উপদেষ্টারা। সভার সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শফিকুল আলম জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এভারকেয়ার থেকে মরদেহ সকালে সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। মরদেহ নিয়ে যাওয়া, তার জানাজা ও দাফন—প্রতিটি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মার্যাদা নিশ্চিত করা হবে। বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।
এ ছাড়া সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা কর্মকর্তা এ সভায় অংশ নেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।